SKU: PCS
স্কুলের বিস্কুট দৌড়ের মত পিছে হাত বেঁধে ঝুলন্ত বিস্কুট মুখের মধ্যে পুরে দ্রুত ফিরে আসার মত আমরা ভোগবাদের দুনিয়ায় টাকা পয়সা ধন সম্পত্তির পিছনে ছুটতে ছুটতে হয়রান, নাজেহাল।
জীবনে সফল হওয়া, সুখী হওয়া, শান্তি পাওয়া একটা সামগ্রিক বিষয়, খণ্ডিত কিছুই না।
মানুষ হিসেবে আমাদের আছে ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, পেশাজীবন ও পারলৌকিক জীবন। এই পাঁচটা ক্ষেত্রেই সফলতা দরকার। সে সফলতা কোন কোন ক্ষেত্রে একটু কমবেশি হতে পারে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে, বিশেষ করে পেশাজীবনে পদ পদবী, টাকা পয়সা গাড়ি বাড়ির পিছনে ছুটতে ছুটতে মানুষ এমন এক জায়গায় নিজেকে আবিষ্কার করে যেখানে সে “হাল ভাঙা নৌকার নাবিকের মত” নিঃসঙ্গ নির্জন দ্বীপে অসহায়।
আমি আমার দীর্ঘ কর্ম জীবনে অনেক বড় সাহেব, বিশাল বিশাল প্রতিষ্ঠানের মালিককে দেখেছি যাদের হাজার হাজার কোটি টাকা ছাড়া আর কিছুই নাই। দুই একজন হাজার-কোটিপতি একান্ত আমাকে দুঃখ করে বলেছেন তার অন্তরের নিভৃততম জায়গায় জমে থাকা থোকা থোকা রক্তাক্ত যন্ত্রণা।
সমাজের হত দরিদ্র থেকে নিম্ন মধ্যবিত্ত হয়ে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত সর্বত্র একই হাহাকার।
আমার নিজের জীবন-পরিক্রমা থেকে উপলব্ধি করেছি, পড়াশুনা করে শিখেছি যে জীবনের সব বিভাগগুলোতে আনুপাতিক সাফল্য অর্জন করতে না পারলে জীবন অতৃপ্ত, অসুখি হয়ে ওঠে।-
উদাহরণ হিসেবে, একজন যদি পড়াশুনায় অনেক ভালো রেজাল্ট করলো কিন্তু পেশাজীবনে পিছে পড়লো।
আবার একজন পড়াশুনা ও পেশাজীবনে তুখোড় সফলতা অর্জন করলো। কিন্তু পারিবারিক জীবনে কলহ-কল্লোলে কাহিল।
আবার একজন পড়াশুনা, পেশা, পারিবারিক জীবনে সফল কিন্তু তার আধ্যাত্মিক জীবনে মরু সাহারার সাইমুম ঝড়! একটু শীতলতার জন্য মরুদ্যানের তালাশে ক্লান্ত পথিক এক।
এমনও একজনের উদাহরণ হতে পারে, যিনি শিক্ষা, পারিবারিক, সামাজিক, পেশা জীবনে দারুণ সফল কিন্তু নিজে অসুস্থতার জন্য জীবনের অর্জন উপার্জনের কোন নিয়ামতই তৃপ্তির সাথে উপভোগ করতে পারেন না।
উপরের কোন একজন সফল মানুষই সফলভাবে সফল না।
এজন্য জীবনের শুরু থেকে আমাদেরকে এমন পরিকল্পনা করতে হবে যাতে আমরা সার্বিক সাফল্য অর্জন করতে পারি।
আমাদের সন্তানদেরকেও এমনভাবে বোঝাতে হবে যে সফলতা মানে শুধুই টাকাপয়সা না, গাড়ি বাড়ি গ্যাজেট না। জীবনের মানে আরো ব্যাপক, আরো বিস্তৃত আদিগন্ত ব্যাপী।
এ পরিকল্পনায় জীবনের সব ক্ষেত্রেই যে সমান সফলতা আসবে তা কিন্তু না তবে সব দিকে খেয়াল রাখলে জীবন অসম্পূর্ণ থাকবে না।
বর্তমানের, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ঢেউয়ে প্রিন্ট আর ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভোগবাদের সব উপকরণ আমাদের চোখের সামনে চলে আসছে। এবার তা চোখের থেকে হাতের তালুতে আনার জন্য আমরা সব কিছু ভুলে ছুটতে শুরু করি।
একবারও ভাবি না যে ওই জিনিসটা আমার দরকার আছে কি নাই অথবা কতটুকু দরকার। তা কি আমার অপরিহার্য অভাবের একাংশ না কি তা আমার বিলাসিতার উপকরণ!
ফাওযান আজীম তিনটি ভাগে সাজানো—
প্রথম অংশ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে, দ্বিতীয় অংশ আমাদের পেশাজীবন নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা, আর তৃতীয় অংশ আমাদের আধ্যাত্মিক জীবন বা আখিরাত নিয়ে লেখা।
আমরা রূহের জগত বা ‘আলমে আরওয়াহ’ থেকে ‘আলমে খালক’ এ এসেছি। মহান মৃত্যুর ভিতর দিয়ে ‘আলমে বরজাখ’ হয়ে আমরা আবার ফিরে যাব আমাদের সেই আদি উৎসে যেখানে চুলচেরা হিসেব হবে দুনিয়া পরিভ্রমণের।
‘ফাওযান আজীম’ একজন মানুষকে তার জীবনের ৩৬০ ডিগ্রী ক্ষেত্রে করণীয় নিয়ে কথা বলে যা তাকে সত্যিকারের সফল করবে, আংশিক সফল না।
আংশিক সফলতা আমাদেরকে পঙ্গু, বিকলাঙ্গ, প্যারালাইজড করে ফেলেছে। এর রশি টেনে ধরে না থামালে আমাদের মানব সভ্যতা চিরতরে হারিয়ে যাবে। মায়া সভ্যতা, ইনকা সভ্যতার মত কোন আবিষ্কারক হয়তো একদিন আবিষ্কার করবে যে এমন একটা সভ্যতা ছিল যারা টাকা পয়সা গাড়ি বাড়ি ছাড়া সব কিছু উপেক্ষা করেছিল বলে একসময় বিলীন হয়ে গিয়েছিল।
নজর ই জিলানী
ফাউন্ডার এন্ড সিইও, শার্পনার
Pay with cash upon delivery.